Breaking

Friday, February 10, 2023

February 10, 2023

আল্লামা কাকে বলে? আল্লামা শব্দের অপপ্রয়োগ




আজকাল আমাদের দেশে আলেমদের নামের আগে আল্লামা শব্দের ব্যবহার এত বেশি বেড়েছে যে, যে ব্যক্তি আরবী ইবারত 4/5 লাইন পড়তে পারে না কিংবা কুরআন-হাদীসের জ্ঞানে মোটেই পারদর্শী নয়,  তার নামের আগেও আল্লামা শব্দের ব্যবহার দেখা যায়, যা খুব দুঃখজনক ও হাস্যকর।তাই আজ আলোচনা করব, আল্লামা কাকে বলে? আল্লামা শব্দের অপপ্রয়োগ নিয়ে। এ ব্যাপারে মুফতি রফি উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন, ‘‘বর্তমান সময়ে আল্লামা একটি মজলুম ইস্তেলাহ বা নিপীড়িত পরিভাষা। আল্লামা এত সহজ বিষয় নয় যে কারো নামের আগে লাগিয়ে দিলেই সে আল্লামা হয়ে যাবে বড় আল্লামা হওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার ।’’ আল্লামা একটি সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি । সুতরাং একে যেথায় সেথায় অপাত্রে ব্যবহার করা মোটেই ঠিক নয় । 

আমার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন

আল্লামা শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণঃ

আরবি ইলম (علم) শব্দের অর্থ জ্ঞান। এখান থেকে এসেছে আলিম (عالم) বা জ্ঞানী। আলিম শব্দের মুবালাগা বা সুপারলেটিভ ডিগ্রি হচ্ছে আল্লামা(علامة); যার অর্থ অত্যন্ত জ্ঞানী বা মহাজ্ঞানী।

কামুসুল আলকাব গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘আল্লামা’ মুবালাগার সিগা (যা কোনো দোষ বা গুণের আধিক্য বোঝায়)। সাধারণ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য এ শব্দ ব্যবহার করা শুদ্ধ নয়। যদি না ব্যক্তির জ্ঞানচর্চায় গভীর পাণ্ডিত্য ও স্বতন্ত্র অবস্থান না থাকে।


‘আল্লামা’ শব্দের পারিভাষিক অর্থঃ


এমন কিছু পরিভাষা থাকে যার অর্থ এক শব্দে করা যায় না বরং বিস্তারিত ভাবে বলতে হয় । তদ্রুপ আল্লামা শব্দটিও। এই শব্দের পারিভাষিক অর্থ এক শব্দের মাধ্যমে বলাটা খুব মুশকিল। তাই আসুন বিস্তারিত জেনে নেই,  একজন ব্যক্তির মধ্যে বা একজন আলেমের মধ্যে কী কী গুন থাকলে তাকে আল্লামা বলা যেতে পারে। 


‘আল্লামা’ শব্দের ব্যবহার আরবরা কিভাবে করেন?


আল্লামা শব্দের ব্যবহার আরবরা খুব কম করেন। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য ও সাধারণভাবে তার স্বীকৃতি লাভ করেন তবেই তার ক্ষেত্রে আল্লামা শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যেমন কেউ তাফসিরে পণ্ডিত তাকে বলা হয় আল্লামা ফিত তাফসির।

তবে কারো পাণ্ডিত্য যদি সর্বজন বিধিত না হয় তবে তারা ‘তালিবুল ইলম’ বা জ্ঞানান্বেষী শব্দটি ব্যবহার করেন। এমনকি বিখ্যাত অধ্যাপকরা পর্যন্ত নিজেদের ‘তালিবুল ইলম’ পরিচয় দিতে সাচ্ছ্বন্দবোধ করেন।

আরোও পড়ুনঃ মাওলানা বলা কি শিরক? আলেমদের মাওলানা বলা কি হারাম?

আল্লামা’ শব্দ ব্যবহারে শরিয়তের বিধান

এখানে দুটি শব্দ। এক. আল্লাম, দুই. আল্লামা। আল্লাম শব্দটি আল্লাহ নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন। তাই তা কোনো মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। অনেকে বলেন, হজরাতুল আল্লাম। এটি অনুচিৎ।’

‘আর মানুষের ক্ষেত্রে আল্লামা শব্দটি ব্যবহার করা বৈধ। তবে তা সবার জন্য নয়। আরব রীতি অনুযায়ী কেবল কোনো শাস্ত্রের পণ্ডিতরাই তার নামের সঙ্গে আল্লামা শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন। অন্য কেউ নন।

যার নামের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে তিনি যে শাস্ত্রে পণ্ডিত তাও সেখানে উল্লেখ করতে হবে। যেমন, আল্লামা ফিন নাহব, আল্লামা ফিত তারিখ ইত্যাদি। 

আল্লামা হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে,সেই শর্তসাপেক্ষে কাউকে আল্লামা বলা যেতে পারে। ইসলামি গবেষকদের মতে,আল্লামা তাদেরকে বলা যায়,”যারা জামে’উল মানকুলাত -ওয়াল মা’কুলাত বিষয়ে অভিজ্ঞ অর্থাৎ উলূমে নাকলিয়া এবং উলূমে আকলিয়ায় সমানভাবে যিনি দক্ষ হবেন তিনিই আল্লামা”।

ইলমে মানকুলাত বলতে ওই শাস্ত্রকে বোঝানো হয়, যা উক্তি ও বর্ণনানির্ভর, যার মধ্যে কিয়াস বা যুক্তি চলে না। যেমন- ইলমে আকাইদ,ইলমে ফারায়িয,ইলমে হাদীস,ইলমে নাহব,ইলমে সরফ,ইলমে রিজাল,ইলমে তারীখ,ইলমে বালাগাত,ইলমে লুগাত,ইত্যাদি।

আর ইলমে মা’কুলাত বলতে ওই শাস্ত্রকে বোঝানো হয়, যার মধ্যে কিয়াস, যুক্তি ও বুদ্ধি খাটাতে হয়, যেমন-ইলমে ফিকহ,ইলমে মানতিক, ইলমে কালাম,ইলমে হাইয়াত,ইলমে ফালসাফা ইত্যাদি।

তাহলে আল্লামা তাঁকেই বলা যাবে,যিনি একই সাথে মুহাদ্দিস, মুফতী, মুফাসসির, মুফাক্কির, হাদীসবিশারদ, আরবী ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, ফায়লাসুফ, ইতিহাসবিদ, মানতিকবিদ ও অলঙ্কার শাস্ত্রবিদ তথা ইলমে শরিয়তের সব শাস্ত্রে দক্ষ-অভিজ্ঞ হবেন।

উপরের শর্তসাপেক্ষে বলা যায়,যিনি শরীয়তের মৌলিক শাস্ত্রে অভিজ্ঞ, একমাত্র তাকেই আল্লামা বলা যেতে পারে।বিশেষ বিষয়ে পারদর্শী ব্যক্তিকে সেই বিশেষ বিষয়ের উপাধি দেওয়া যায়,যেমন -যিনি হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ তাকে শায়খুল হাদীস, যিনি ইলমে ফিকহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ তাকে মুফতী, কিংবা তাফসীর শাস্ত্রে অভিজ্ঞ তাকে শায়খুত তাফসীর বা মুফাসসির, যিনি কেরাত শাস্ত্রে অভিজ্ঞ তাকে শায়খুল কুররা বলা যায়। কিন্তু কাউকে আল্লামা বলতে হলে, অনন্তপক্ষে উপরের বিষয়গুলো প্রতি খেয়াল রেখে তাকে যদি যোগ্য মনে করেন তাহলে আল্লামা বলতে পারেন।

আলিম যে কাউকে বলা যায়,প্রত্যেক জ্ঞানী লোক এক একজন আলিম।কিন্তু আল্লামা এতো সহজ উপাধি নয় যে,কেউ সামান্য গরম ওয়াজ কিংবা সামান্য সুর দিয়ে ওয়াজ করতে পারলেই তাকে আল্লামা উপাধি দিয়ে দিবেন।সুতরাং কাউকে আল্লামা বলতে হলে একটু চিন্তা-ভাবনা করা উচিৎ।যাকে আল্লামা বলা হচ্ছে, তিনি কি উল্লিখিত সকল বিষয়ে পারদর্শী?

আরোও পড়ুনঃ মুসাফাহা দুই হাতে করা সুন্নাত না এক হাতে? মুসাফাহা করার নিয়ম

ভারত উপমহাদেশে আল্লামা শব্দের প্রথম ব্যবহৃত

ভারতীয় উপমহাদেশে এ উপাধিটি প্রথম ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ভারতীয় মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা কবি ও দার্শনিক মুহাম্মদ ইকবালের ব্যাপারে। তিনি ভারতবর্ষের প্রথম খ্যাতিমান ‘আল্লামা’।  যদিও তাকে আল্লামা বলা নিয়েও উলামাদের মধ্যে ইখতেলাফ রয়েছে, কিন্তু তার আল্লামা উপাধিটি সর্বমহলে জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে।

তার পূর্বে ভারতবর্ষের জগদ্বিখ্যাত আলেমদের নামের সঙ্গেও এতোটা বিস্তৃত পরিসরে আল্লামা ব্যবহার করা হতো না। তাদের নামের সঙ্গে ব্যবহৃত হতো মাওলানা বা মৌলভি। খুব বেশি হলে শায়খুল হাদিস,শায়খুত তাফসীর, শায়খুল ইসলাম, শায়খুল আদব, মুফতী ইত্যাদি। যেমন, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ, সাইয়েদ মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহঃ, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহঃ, মাওলানা আবুল হাসান নদভী, মুফতী তাকি উসমানী। 

মুহিউদ্দীন খান রহঃ আল্লামা বলা অপছন্দ করতেন

একবার মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেবকে কোন ওয়াজে আল্লামা বলা হলো, তিনি সাথে সাথেই রাগ করে বলে উঠলেন, যেখানে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেম আশরাফ আলী থানবী, শামসুল হক ফরিদপুরী কিংবা শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানীকে মাওলানা বলা হয়, সেখানে আমার নামের আগে আল্লামা বলছ, তোমাদের সাহস ত কম না? চিন্তা করুন, তার মতো মহান ব্যাক্তি যেখানে নিজের নামের আগে আল্লামা শব্দের ব্যবহার করতে সাহস করেন নি, সেখানে আমাদের প্রাইমারী লেভেলের আলেমরা নিজেদের নামের আগে আল্লামা ব্যবহারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। আমি এমন অনেককেই চিনি, যারা আল্লামা শব্দের তাহকিকও করতে পারবে না তারাও আজ আল্লামা অমুক ৷

বক্তা মানেই আল্লামা

সময়ের বিবর্তনে আল্লামা শব্দের ব্যবহার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এই আল্লামা শব্দের ব্যবহার আমাদের দেশের ওয়াজী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ব্যবহার হয়ে থাকে।  আমি এমন অনেককে জানি যারা প্রত্যেক ক্লাসে কোন না কোন বিষয়ে ফেল করতো । তারা এখন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বক্তা, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন ও আল্লামা । কারণ তাদের কণ্ঠে জাদু আছে কথা বলতে পারে সুর দিয়ে । বাস,  ক্লাসে ফেল করেও সে এখন আল্লামা । নূরানী মাদ্রাসার মুহতামিম তিনিও আল্লামা। আল্লামা কাকে বলে? আল্লামা শব্দের অপপ্রয়োগ বুঝলেন তো 

এবার চিন্তা করুন! আল্লামা শব্দের উপাধীর প্রতি আমাদের দেশে কি পরিমাণ জুলুম করা হচ্ছে? আসুন, আল্লামা শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হই।সাধারণ একজন কামিল পাশ/দাওরায়ে হাদীস পাশ ওয়াজী হুজুরের নামের সাথেই যেনো আল্লামা উপাধি লাগিয়ে না দেই।কারণ আল্লামা শব্দের অপব্যবহারে প্রকৃত আল্লামাদেরকে অবমাননা করা হচ্ছে।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে একনিষ্ঠ ভাবে তার ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




Thursday, February 9, 2023

February 09, 2023

সুফফাহ মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ

 





মুহতামিম / প্রধান শিক্ষক :

মুফতি রফিকুল ইসলাম বিন নুরী

  • মুহতামীম ও শাইখুল হাদীস
  • মোবাইলঃ 01994-220220
মুফতি মাসউদুর রহমান
  • নাজিমে তালিমাত (বালিকা শাখা) ও মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ 01912-620163
মুফতি ইবরাহীম বিন মুসলিম
  • সিনিয়র মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ01918-058145
মুফতি আহমাদুল্লাহ
  • নাজিমে তালিমাত (বালকা শাখা) ও মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ 01753-750884
মুফতী মাহমুদুল হাসান
  • সিনিয়র মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ ০১৭১৫-৩৮৪৮৬৩
মাওলানা ইবরাহীম খলীল
  • সিনিয়র শিক্ষক
  • মোবাইলঃ ০১৭২৯-৮৩৩৭৪১
  • সহকারী তালিমাত ও সিনিয়র মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ 01782409169
মুফতি গোলাম কিবরিয়া
  • নাজেমে দারুল ইকামাহ ও সিনিয়র মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ 01794341035
মুফতি কামরুজ্জামান
  • সিনিয়র মুহাদ্দীস
  • মোবাইলঃ 01918339439
মুফতি জাহাঙ্গীর
  • সিনিয়র শিক্ষক
  • মোবাইলঃ 01717736566
মুফতি আ. হাফীয
  • সিনিয়র শিক্ষক
  • মোবাইলঃ01780639393
মাওলানা হুমায়ূন কবীর
  • সিনিয়র শিক্ষক
  • মোবাইলঃ 01963139096
মাওলানা আঃ মুকীত
  • শিক্ষক
  • মোবাইলঃ ০১৯১০-৪৭৭৪৩৫
মাওলানা আবু সাঈদ
  • শিক্ষক
  • মোবাইলঃ ০১৯২২-৬৪৩৭২৭


February 09, 2023

সুফফাহ মাদরাসার পরিচিতি



এক নজরে সুফ্ফাহ মাদরাসা

ঝিনাইদহ জেলার অর্ন্তগত বাংলাদেশের ১ম স্তরের পৌরসভা (১৮৬৯খৃঃ)মহেশপুরস্থ জলিলপুরে প্রায় এক একর জায়গার উপর অবস্থিত। ২০০৯ ইং এর সেপ্টেম্বর থেকে অস্থায়ী ভাবে ভাড়ার উপর আরম্ভ করে আলহাজ্ব ডাঃ আঃ রহীম সাহেব কর্তৃক দান কৃত জায়গার উপরে ২০১৩ইং সাল থেকে এলাকাবাসী ও মুহিব্বিন গণের সহযোগিতায় মুফতী ফয়জুল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে পুর্নোদ্যমে নির্মাণ কার্য শুরু হয়। এবং ২০১৪ ইং সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৬তারিখ রবিবার নিজস্ব জমিতে স্থানান্তরিত হয়।

আদর্শঃ সুফফাহ মাদরাসা বিশ্ববিখ্যাত মাদারে ইলমী দারুল উলুম দেওবন্দের সিলেবাসভুক্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের  আদর্শ ভিত্তিক বৃহত্তর একটি দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

লক্ষ-উদ্দেশ্য

১. ইলমে দ্বীনের হেফাজত ও ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে আহকামে খোদাওয়ান্দী ও সুন্নাতে নববী প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিয়ম তান্ত্রিক তালিম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে হক্কানী আলেম তৈরি করতঃ বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির খেদমতের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।

২. আক্বায়েদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও ফিক্বহে হানাফির সংরক্ষন এবং দেওবন্দি সিলসিলায় তালিম তারবিয়াতের যথাযথ বাস্তবায়ন করা।

৩.ইসলাম বিদ্বেষী খোদাদ্রোহিদের নিয়মতান্ত্রিক মোকাবেলা পুর্বক সমাজ থেকে নাস্তিক্যবাদ ও র্শিক বিদআতের মুলোৎপাটনের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা ও সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা পৌঁছে দিয়ে ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থার প্রবর্তন করা।

জামিয়ার শিক্ষাধারাঃ

সুফ্ফাহ মাদ্রাসা গতানুগতিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে জামিয়া সাজিয়েছেতার পাঠদান পদ্ধতি। শিশু শ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দাওরায়ে হাদীস, ইসলামের ইতিহাস, আরবী ও বাংলা সাহিত্য সহ নানা মুখি পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন করে চতুর্মূখি যোগ্যতা সম্পন্ন বিচক্ষণ আলেমে দ্বীন জাতিকে উপহার দেয়ার লক্ষে ব্যাপক কর্ম সূচী গ্রহন করেছে।সুবিন্যস্ত সিলেবাসের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে মৌলিক ভাবে কোরআন, হাদীস, ফিক্বহ, তাফসির ,উসুল ,আক্বাইদ, বৈষ্যয়িক পর্যায়ে আরবী সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরন,নাহু ,সরফ, বালাগাত সহ বাংলা, ইংরেজী, গণিত, ইতিহাস, বিজ্ঞান,ভুগোল, দর্শন ইত্যাদি সমুদয় বিষয় প্রয়োজন পরিমান শিক্ষা দেওয়া হয়।শিক্ষার পাশাপাশি জনসমাজে ইসলামি শিক্ষার সুফল পৌঁছে দেয়ার মহান লক্ষ্যে জামিয়া বিভিন্ন সময় নানামুখি কর্মসুচী গ্রহন করে থাকে।সব মিলিয়ে সুফফাহ মাদরাসা বহু বিভাগ সমন্বিত একটি মহা প্রকল্প। 

আরোও পড়ুনঃ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা কি জায়েয ?

জামিয়ার শিক্ষা প্রকল্পঃ

১.নূরানী বিভাগঃ মাত্র তিন বছরের কোর্সে সহীহ শুদ্ধভাবে সম্পুর্ন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ৬০টি হাদীস অর্থসহ মুখস্থ, ওজু গোসল ও নামাজের মাসায়েল (ঈদ জুমআ ও জানাজা)সমুহ মুখস্থের পাশাপাশি প্রাথমিক বাংলা,অংক,ইংরেজী শিক্ষা দেয়া হয়।

২.কিতাব বিভাগঃ এটি জামিয়ার শিক্ষা ব্যাবস্থাপনায় সর্বাধীক সমৃদ্ধ বৃহত্তর ও প্রধান বিভাগ এবিভাগেই তৈরি হয় জাতির কান্ডারি আধ্যাত্বিক রাহবার দ্বীনী শিক্ষারক্রমমুল্যায়নের ভিত্তিতে কিতাব বিভাগটি মৌলিক পর্যায়ে ৫টিস্তরেবিভক্ত।ইবতেদাইয়্যাহ(প্রাথমিক)মুতাওয়াসসিতাহ(মাধ্যমিক)সানুবিয়্যাহউলয়া(উচ্চমাধ্যমিক) ফজিলত(ডিগ্রি)ও তাকমীল (মাষ্টার্স) এ৫টি স্তরে মোট ১২বৎসর সময়ে পুর্ন দ্বীনী শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কে যোগ্য আলেম/আলেমারূপে গড়ে তোলা হয়ও সনদ প্রদান করা হয়।

বিশেষ বিভাগঃ সর্ব স্তরের ব্যক্তিদের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যাবস্থা তথা বয়স্ক ও বয়স্কাদের জন্য ৫ম ৮ম ও ১০ম পরিক্ষার পর ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য কোরআন শিক্ষা কোর্স স্কুল/কলেজ থেকে আগত ছাত্র ও ছাত্রীদের কে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে কিতাব বিভাগে মিজান জামাতে ভর্তির উপযোগি হিসাবে গড়েতোলা হয়।

জামিয়ার ছাত্র/ছাত্রীদের প্রশিক্ষন কর্মসূচীঃ

দ্বীন ও সমাজের সকল পরিসরে জামিয়ার সন্তানরা যাতে ভুমিকা রাখতে পারে সেজন্য রয়েছে নানামুখি আয়োজন। এসব আয়োজন কে বাস্তবে রুপদানের জন্য মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত হয় ছাত্র ছাত্রী সংসদযা সুফফাহ ছাত্র কাফেলা/ছাত্রী কাফেলা নামে পরিচিত।তাদের দক্ষ পরিচালনায় সম্পন্ন হয় এ সকল আয়োজন।

ক. ছাত্র/ছাত্রী পাঠাগার ঃজামিয়ার সিলেবাস ভুক্ত পাঠ্য পুস্তকেরপাশাপাশি ছাত্র/ছাত্রীদেরজ্ঞানেরপরিসীমা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছানোর লক্ষে সমকালিন অবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগতির জন্য তথ্য বহুল বই পুস্তক সমৃদ্ধ একটি মানসম্মত পাঠাগার ও রয়েছে এই কাফেলার অধীনে।

খ. বক্তৃতা প্রশিক্ষনঃইল্ম অর্জনের পর তা সুন্দর সাবলিল ভাবে সাধারন মানুষের দোর গোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষে ছাত্র/ছাত্রী কাফেলা আয়োজন করে প্রতিযোগিতা মূলক সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষন জলসা

গ.দেয়ালিকাঃপাশ্চাত্য মুখি বিকৃত রুচির  কলম ব্যাবসায়ীদের বিরূদ্ধে ইসলামী সাহিত্যের নির্মল জ্যোতি বিকিরনের মহান লক্ষ নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের কলম সৈনিক রুপে গড়ে তোলার জন্য বছরে দুইবার নিয়মিত দেয়ালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ কি একই নামাজ

জামিয়ার সেবা প্রকল্পঃ

১.ফতওয়া বিভাগঃ ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক ধর্মীয় ওবিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যার সমাধান দক্ষ মুফতী সাহেবগন এই বিভাগ থেকেই দিয়ে থাকে।

২.ফারায়েজ বিভাগঃ মৃত ব্যাক্তির পরিত্যাক্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে শরিয়তের বিধান মুতাবেক সুষ্ঠু বন্টনের রুপ রেখা প্রদান করা হয় এই বিভাগের মাধ্যমে।

সুফ্ফার সফলতাঃ অত্র মাদরাসা টি ব্যাপক ভাবে দ¦ীনের চতুর্মুখি খিদমাত ও কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সমুহে মেধা তালিকায় সম্মান জনক স্থান লাভ করার মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছে।আল্লাহ তায়ালা যেন এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। আমীন।

শেষ কথাঃ

মনোরম পরিবেশে বিজ্ঞবিচক্ষন উলামাগনের সার্বিক তত্বাবধানে অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলির আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিচালিত এপ্রতিষ্ঠান সাবলিল গতিতে এগিয়ে চলছে তার অভিষ্ট লক্ষ্যপানে।দেশ,জাতি ও দ্বীনের কল্যানে সুফ্ফাহ মাদ্রাসার কর্মকান্ড হোক গতিময় ও সাফল্য মন্ডিত ।আমীন।

Wednesday, February 8, 2023

February 08, 2023

আমাদের প্রশ্ন করুন



যে কোনো বিষয়ে ইসলামী সমাধান পেতে প্রশ্ন করুন জামিয়ার ইফতা বিভাগে। ইনশা’আল্লাহ যথাসম্ভব শীঘ্র উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

আমাদের ই-মেইল ঠিকানা: suffahmadrasha@gmail.com

দয়া করে আপনার নাম, অবস্থানের দেশ, মোবাইল নম্বর, প্রশ্নের বিষয় এবং বিস্তারিত প্রশ্ন লিখে পাঠান।

সরাসরি জানতে কল করুন

মুফতী রফিকুল ইসলাম- 01994-220220 


মৌখিক প্রশ্নোত্তরে জরুরী জ্ঞাতব্য বিষয়

– প্রশ্ন করার পূর্বেই প্রশ্নটি গুছিয়ে ঠিক করে রাখুন।

– সংক্ষেপে মূল বক্তব্যটি উপস্থাপন করুন।

– অযথা ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করবেন না।

– প্রশ্ন করার পূর্বেই নিজের নাম ও ঠিকানা সংক্ষেপে বলে নিন।

– উত্তর পেতে তাড়াহুড়া করবেন না। প্রয়োজন হলে দ্বিতীয়বার কল করে উত্তর জেনে নিন।

February 08, 2023

ঘুমন্ত অবস্থায় তালাক দিলে পতিত হবে কি?

আমার ঘুমের ভিতরে কথা বলার অভ্যাস আছে। এটা আমার রোগ। আমি ঘুমের ভেতরে প্রায় নাকি তালাক তালাক বলে উঠি। কিন্তু জাগ্রত হওয়ার পর কিছুই মনে থাকে না। এখন টেনশনে আছি যে, এর কারণে আমার দাম্পত্যজীবনে কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা? অর্থাৎ আমার স্ত্রীর উপর তালাক হয়ে গিয়েছে কিনা?

সুফফাহ মাদরাসা জলিলপুর মহেশপুর


জবাব: এ বিষয়ে আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা উত্তর দিয়েছেন,

إذا طلق الرجل زوجته وهو نائم : فإن طلاقه لا يقع 
‘যদি কোনো ব্যক্তি স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় তালাক দেয় তাহলে তা পতিত হবে না।

হাদীসে রয়েছে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
  رفع القلم عن ثلاثة : عن النائم حتى يستيقظ ، وعن الصبي حتى يبلغ ، وعن المعتوه حتى يعقل

-তিন শ্রেণীর মানুষ থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত, নাবালেগ বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ও পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত। তিরমিযি, ইবনু মাজাহ এবং হাকিম আলী রাযি. সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।’ 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলেও তা পতিত হয় নি।
উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169